
পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের একটি মোটরগ্যারেজে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের বাউনিয়া এলাকায় একটি মোটরগ্যারেজ ও সার্ভিসিংয়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শিুশুটির বয়স পাঁচ বছর। মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের দোকানে কাজ করতেন বড় ভাই জিহাদ। সেখানে মাঝে মাঝে গিয়ে মোটরসাইকেলে ওঠার বায়না ধরতেন ছোট ভাই।
পরিবার জানায়, এ দিন বড় ভাইকে পাশের দোকানে বিস্কুট আনতে পাঠিয়ে গাড়িতে হাওয়া দেওয়ার মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথে বাতাস প্রবেশ করায় অন্য কর্মচারীরা। ভাই ফিরে এসে দেখেন আবু বকর পেট ফুলে পড়ে আছে মেঝেতে। নাক-মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে পেটের খাবার, পায়ুপথ দিয়ে বের হচ্ছে রক্ত। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আবু বকর।
শিশুটির বড় ভাই জিহাদ বলেন, ‘মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপের কর্মচারীরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।’
এ প্রসঙ্গে পল্লবী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে পরিবার মামলা করেছে। অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
আবুর মা আয়শা বলেন, ‘তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করে দুই ছেলেকে মানুষ করছিলেন। অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন। এখন তার ছোট ছেলেকে এভাবে হারিয়ে তিনি শোকে পাথর। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।’
শিশুটির বাবা জাবেদ আলী বলেন, ‘জিহাদ পড়াশোনায় ভালো না, তাই কাজ শেখানোর জন্য গ্যারেজে দিয়েছিলাম। ভাবিনি ওর চোখের সামনেই ভাইয়ের এমন মৃত্যু হবে।’
এ প্রসঙ্গে পল্লবী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে পরিবার মামলা করেছে। অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঘটনার পর পল্লবী থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে এক কিশোরকে। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই শিশু আইন অনুযায়ী সমাজসেবা কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। বাকি আসামিরা হলেন রাজু (২০) ও গ্যারেজের মালিক মো. সুজন খান (৩৬)। অন্য এক তরুণ হৃদয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে পরিবারের অভিযোগ থাকলেও এজাহারে তার নাম নেই, যা নিয়ে পরিবার প্রশ্ন তুলেছে।
পল্লবী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে পায়ুপথে বাতাস ঢোকানোর কারণে। পাশের একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স বলছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সমাজের প্রতিটি স্তরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে এমন জায়গায় যেখানে শিশুরা কাজ করে বা যাতায়াত করে, সেসব স্থানে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়াতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম