
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন এবং পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আকাশপথে যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয় আলোচনা হবে। আঞ্চলিক সংস্থা যেমন সার্ক, ওআইসি, ডি-৮–এর মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ধরনের বৈঠক হয়েছিল ২০১০ সালে, ইসলামাবাদে। আর অর্থমন্ত্রী পর্যায়ে অর্থনৈতিক কমিশনের শেষ বৈঠক হয়েছিল আরও আগে, ২০০৫ সালে। এবারের আলোচনায় ওই কমিশনের বৈঠক পুনরায় চালুর বিষয়ও উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পাকিস্তান যৌথ কমিশন পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিতে পারে, যাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানো যায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য একটি বিশেষায়িত কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ এখনও ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টি ভুলে যায়নি। ঢাকার দাবি, পাকিস্তানকে এই বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা এবং বৈদেশিক সাহায্যের পাওনা ফেরত দেওয়ার দাবিও থেকে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই সম্পর্ক এগিয়ে যাক, কিন্তু যেসব বিষয় অমীমাংসিত, সেগুলোর সমাধান না হলে এগোনো কঠিন। পাকিস্তানকে একটা অবস্থান নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছর কেটে গেছে, এখনও সমস্যা মিটছে না। তাদের যদি আগ্রহ থাকত, অনেক আগেই মিটে যেত। এবার দেখা যাক, আলোচনা থেকে কী আসে।’
বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।
বুধবার ঢাকায় এসে পৌঁছান আমনা বালুচ। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম