প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:২৪ পিএম

রিফাত মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে পুলিশের সামনে থেকে রিফাত মিয়া (১৯) নামে এক যুবককে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘ডিজিএফআই’র সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। পরদিন পরিবারের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
রিফাত সৌদি আরবপ্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালুর ছেলে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে সোমবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি হাইএক্স গাড়িতে করে আসা ১০-১২ জনের একটি দল প্রথমে প্রধান ফটকের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। তালা না ভাঙায় একজন দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেট খুলে দিলে বাকিরাও প্রবেশ করে বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার আঁচ পেয়ে শহিদুল ইসলাম দ্রুত নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করার অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওসি মাইকিং করতে নিষেধ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তারা দুর্বৃত্তদের কার্যক্রম প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। পুলিশের সামনেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায় এবং একপর্যায়ে রিফাত মিয়াকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
এইদিনই রাত ৩টার দিকে শহিদুল ইসলামের ফোনে অপহরণকারীরা কল করে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন (৮ এপ্রিল) সকালে রিফাতের মায়ের ফোনে আবার কল দিয়ে মুক্তিপণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা নিজেদের ‘ডিজিএফআই’র সদস্য পরিচয় দেয়।
শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি পুলিশকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছি, মাইকিং করার কথা বলেছি—কিন্তু ওসি নিষেধ করেন। পুলিশ সামনে থেকেও কোনো বাঁধা দেয়নি। এখন আমার ছেলের জীবন নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।”
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম মালু বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মো: কামাল মিয়া, আবু কালাম আজাদ, কামাল খন্দকারসহ অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, অপহরণকৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া পুরোপুরি ঘটনাটি আমার জানা নেই তবে তদন্ত চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর