
নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষিকা তাহমিনা রহমান। সম্প্রতি ফিলিস্তিনে গাজা ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
রোববার (০৬ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ক্ষমা চেয়ে তিনি এই ঘটনা ব্যাখ্যা করেন।
তাহমিনা রহমান তার পোস্টে লেখেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই, যা ৭ এপ্রিল, ২০২৫-এ গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা সম্পর্কিত। প্রথমেই বলতে চাই, আমার কথার ভুল বোঝাবুঝির কারণে যে গভীর কষ্ট ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। আমি কখনোই ফিলিস্তিন ও গাজার মজলুম মুসলিমদের ওপর নিকৃষ্ট ইসরায়েলের ঘৃণিত হত্যাযজ্ঞ সমর্থন করিনি, এখনও করি না, কখনোই করব না।’
তিনি আরও জানান, যে স্ক্রিনশটগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, তা আমার প্রকৃত মনোভাবকে প্রতিফলিত করে না। এখানে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং আমার কথাগুলো ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমি নিঃসন্দেহে গাজা ও তার জনগণের পাশে আছি, তাদের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার দাবিকে কঠোরভাবে ও গভীরভাবে সমর্থন করি। ফিলিস্তিনের মুসলমানদের হত্যার জন্য আমি ইসরায়েলের করুণ ধ্বংস চাই, মনে প্রাণে চাই, আল্লাহর কাছে চাই।
তার মন্তব্যের পেছনে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথোপকথনটি ছিল কিছুটা বিকালের দিকের, আমি সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ না থাকার জন্য আমি বুঝতে পারিনি এটি পুরো বিশ্বের ও বাংলাদেশের স্টুডেন্টদের একটি কালেক্টিভ প্রটেস্ট। আমি নিতান্তই আমার নিজ ব্যাচ এর সেকশনের কিছু শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত ভেবেছিলাম তাই আমার প্রতিক্রিয়া এরূপ ছিল। তবে সেটা হলেও আমার এইরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক হয়নি। এই কারণে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’
শেষে তিনি বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, বন্ধু এবং এই ঘটনার মাধ্যমে যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
এটি তার পূর্ববর্তী বিতর্কিত মন্তব্যের পর এক ধরনের প্রতিক্রিয়া, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ক্লাস বর্জন করার কারণে অনুপস্থিত দেখানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম