শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● কাহারোলে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান      ● ভারতে যাওয়ার পথে দর্শনা ইমিগ্রেশনে হত্যা মামলার আসামি আটক      ● আগাম ফুলকপিতে পচন, মাঠেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন      ● কুলাউড়ায় ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, রেললাইনের পাশে জুবায়েরের মরদেহ উদ্ধার      ● পঞ্চগড়ে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন      ● সোনারগাঁয়ে মাছের ঘেরে মাচায় তরমুজ চাষ, স্বপ্ন দেখছেন রমজান আলী      ● স্বপ্নের গন্তব্য মালয়েশিয়া, মাঝসমুদ্রে অনিশ্চিত জীবন      ● বিশ্ব ডিম দিবস আজ, এক দশকে উৎপাদন বেড়েছে ৬৮ শতাংশ      ● দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে ঘাড়ে ব্যথা? কমাতে করুন ৫ ব্যায়াম      ● জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে দক্ষতা উন্নয়নের তিন বিশেষ কোর্স      ● ‘প্রসব বেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’, ফেসবুক পোস্টে চিকিৎসক কেয়া      ● দাউদকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে দুই হরতকীগাছ      
স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আবেদন
একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি পারভীন গ্রেপ্তার
রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:০৯ AM আপডেট: ০৭.০৪.২০২৫ ১০:৫৪ এএম

মাদারীপুরে মানবপাচার মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণ মামলার আবেদন করা মানবপাচারকারী দালাল পারভীন বেগমকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত পারভীন জেলার রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের রেজাউল মোল্লার স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে। রোববার (৬ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান।

অভিযোগ রয়েছে, দালাল পারভীনের বিরুদ্ধে করা মানবপাচার মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় তাদের উপর প্রতিশোধ নিতে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার আবেদন করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের শাহ আলম মোল্লার ছেলে নূর আলম মোল্লাকে ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখায় পারভীন ও তার স্বামী রেজাউল মোল্লা। পরে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে তার ছেলে সাকিব মোল্লার মাধ্যমে নূর আলমকে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করে ধাপে ধাপে সর্বমোট ১৭ লাখ ৮ হাজার টাকা মুক্তিপন আদায় করে দালাল পারভীন ও তার চক্রের লোকজন। এরপর আরো মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালালে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্যে মাফিয়াদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। 

গত ১৭ জুলাই ২০২৪ তারিখে নূর আলমকে আহত অবস্থায় দেশে পাঠায় দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ছেলের চিকিৎসা শেষে চলতি বছরের (২০২৫ সাল) ১৮ জানুয়ারি মাদারীপুর বিজ্ঞ মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা রাশিদা বেগম। মামলায় পারভীন বেগমকে প্রধান আসামি করে তার স্বামী রেজাউল মোল্লা (৫০), ছেলে সাকিব মোল্লা (২৬) ও আরেক মানবপাচারকারী শাহীন মিয়াকে আসামি করা হয়। 

খবর জানতে পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান পারভীন ও তার স্বামী রেজাউল। এরই প্রতিশোধ নিতে ও মামলাটি ধামাচাপা দিতে গত ২০ মার্চ মানবপাচার মামলার ৩ ও ৪ নং স্বাক্ষী বখতিয়ার মোল্লা ও শাহ জালাল মোল্লাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আবেদন করেন মানবপাচারকারী পারভীন। পরে রাজৈর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে পারভীনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এর আগে অপর এক ভুক্তভোগী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় গ্রামের আলী শেখের স্ত্রী আচমিনা আক্তার (২৭) বাদি হয়ে মাদারীপুর আদালতে গত ১১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে একই অভিযোগে মানবপাচারকারী পারভীন সহ ৪ জনকে আসামি করে মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। তার বোন জামাই সাইদুর ও চাচা সবুজকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করে কয়েক ধাপে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে পারভীন চক্র।

এই দুইটি মামলার আসামিদের মধ্যে দালাল রাজৈর উপজেলার চানপট্টি গ্রামের সুমন খালাসী (৩০) লিবিয়া, শাহীন মিয়া লিবিয়া, সাকিব মোল্লা ইতালি এবং রেজাউল মোল্লা, খালেদা আক্তার খাফিজা (২০) ও উর্মি বেগম (২৫) বাংলাদেশে পলাতক রয়েছে।

এছাড়াও দালাল পারভীন বেগমের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নূর আলম মোল্লার বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, ১৫ লাখ টাকায় আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার কথা বলেছিল পারভীন দালাল। কিন্তু তার ছেলের মাধ্যমে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৭ লাখ ৮ হাজার মুক্তিপণ নিয়েছে। তারপরও আমার ভাইকে মুক্তি দেয়নি তারা। একপর্যায়ে লিবিয়ার ত্রিপলিতে থাকা আমাদের পরিচিত লোকের মাধ্যমে দূতাবাসে খবর পাঠাই। পরে তারা পারভীনের মাফিয়াদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ভাইকে দেশে পাঠিয়েছে। তারা এতো নির্যাতন করেছে যে, আমার ভাই এখন পর্যন্ত ঠিক মতো হাটতে পারে না। 

মানবপাচার মামলার এক স্বাক্ষী শাহ জালাল মোল্লা বলেন, দালালের টাকা আমি নিজের হাত দিয়ে দিয়েছি। তাই আমি রাজ স্বাক্ষী। কিন্তু পারভীন দালাল মামলাটা ধামাচাপা দিতে আমাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে। কোর্ট থেকে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অথচ পারভীন তার পরিবার সহ পলাতক ছিল, বাড়ি থাকতো না। 

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, মানবপাচারকারী দালাল পারভীন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে।

স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ







Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close