প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৫৬ AM

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত মাসে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ তৈরি পোশাক শিপমেন্ট হয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৮০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পর এই শিপমেন্ট পণ্যের ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, এবং এর সাথে সম্পর্কিত পণ্যগুলোর শুল্ক বৃদ্ধি কিভাবে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে মালিকরা উদ্বিগ্ন।
গার্মেন্ট খাতের মালিকরা জানান, শুল্ক বৃদ্ধির আগেই যে অর্ডারগুলো এসেছে এবং যেসব পণ্য কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পর কী ধরনের শুল্ক আরোপ হবে- সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে, এবং এর ফলে ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক খাতে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
কারখানা মালিকদের উদ্বেগ, যদি শিপমেন্ট পণ্য স্থগিত হয়ে যায়, তবে ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধ না করায় নতুন এলসি খুলতে অসুবিধা হবে। এর ফলে তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। যদি কারখানা বন্ধ হয়, তাহলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা দেশের ৫০ লাখ শ্রমিকের আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে ৫০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে ৫৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ নারী। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির ফলে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই শ্রমিকরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুল্কের কারণে যদি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার প্রথম প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানে। বাংলাদেশের শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, শুল্ক বৃদ্ধি হলে এটি তৈরি পোশাক শিল্পের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এবং তার প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের শ্রমিকরা।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে গার্মেন্ট শিল্পের সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম