
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে গত ২৮ মার্চ শুক্রবার থেকে। দীর্ঘদিন ছুটি উপভোগ করার জন্য পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে অনেকেই ছুটছেন দেশের পর্যটন স্থানগুলোতে।
প্রকৃতির অপরুপ সৌর্ন্দয্যের অপার লীলাভূমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা। প্রতিবছরই ঈদের ছুটিতে হাজারো পর্যটকে মুখর হয়ে ওঠে এই পর্যটন নগরী।
সবুজে ঘেরা চা বাগান দেখতে প্রতিবছরই এই সময়ে পর্যটকদের ভিড় জমে কমলগঞ্জে। পর্যটন ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনাময় এই উপজেলায় ২০টিরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রভাত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহক ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, পদ্মছড়া লেক, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক লক্ষীনারায়ণ দিঘী।
এছাড়াও রয়েছে ২০০ বছরের প্রাচীন ছয়চিরী দিঘী, শমশেরনগর বাঘীছড়া লেক, সুইচভ্যালী, আলীনগর পদ্মলেক, রে অবস্থিত মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি, শমশেরনগর গলফ মাঠ; মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি এবং অপরূপ শোভামন্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেস্টিত সারিবদ্ধ চা বাগানসহ বাংলাদেশের বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরি সম্প্রদায়ের নিরাপদ আবাসস্থল।
শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরিসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোন পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে। সে সাথে রয়েছে প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীসহ গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মণিপুরি, টিপরা ও গারোদের নিরাপদ আবাসস্থল।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আমরা ডিউটি তদারকি করব। ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর