প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম আপডেট: ২৭.০৩.২০২৫ ৭:৪১ PM

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ এখন নিজ মাতৃভূমি রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ২৭ মার্চ এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের একটি অংশ গোপনে মিয়ানমারে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আয়াস (ছদ্ম নাম) জানান, তিনি ও তার মতো শত শত যুবক জান্তা বাহিনী ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত হচ্ছে। ২০২১ সালে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের মধ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনা আরও তীব্র হয়। আয়াস বলেন, 'আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত। আমাদের ভূমি ফিরিয়ে আনতে যা করার দরকার, আমরা করব।'
ক্যাম্প থেকে গোপনে মিয়ানমারে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তরুণরা। প্রতিদিন নিজেদের তাঁবু বদল, প্রশিক্ষণে অস্ত্র চালনা, মার্শাল আর্ট, নজরদারি এবং কৌশলগত তথ্য সংগ্রহের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাদের। ক্যাম্পের ভেতরে থেকেও তারা নিজেদের আন্দোলনকে সংগঠিত করে তুলছে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র দল সক্রিয় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ । মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ স্বেচ্ছায়, প্রতারণার শিকার হয়ে এবং জোরপূর্বক এসব গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছে।
শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বহাল রেখেছে। ফলে তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং তারা সশস্ত্র লড়াইয়ের দিকে ঝুঁকছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার, শরণার্থী ক্যাম্প অফিস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ