প্রকাশ: রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫, ৭:৫২ পিএম

মনপুরা উপজেলায় ভিজিএফ এর চাল বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন নেতাদের সংর্ঘষ হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২ টায় মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মনপুরা হাসপাতালে ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১০ টায় মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসকের নেতৃত্বে চাল বিতরণ করছিল। বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ওই চাল বেশী বিতরণের প্রতিবাদে স্থানীয় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা একসাথে বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ঘণ্টাব্যাপী ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন দলের ১০ জন কর্মী আহত হয়। পরে খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হলে পরিস্থিত শান্ত হয়। এঘটনা প্রসঙ্গে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপত্বি মুফতি এনায়েত উল্লা সাংবাদিকদের জানান, প্রত্যেক বছর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাদের দলের অসহায় নেতা-কর্মীদের চাল পেতে। কিন্তু এই বছর আমাদের অসহায় নেতাকর্মীদের চাল না দিয়ে একতরফা বিএনপির নেতাকর্মীরা চাল দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা মিছিল করি। পরে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছে প্রতিবাদ করতে আসলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের উপর হামলা করে আহত করে।
উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাও. আবু সুফিয়ান অভিযোগ করে জানান, একতরফাভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে মিছিল শেষে প্রশাসকের কাছে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমাদের নেতা-কর্মীরা আহত হয়। এই ব্যাপারে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোশারেফ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি হামলা করিনি বরং গোলমাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যাই।
ভুলবোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মনপুরা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, জাময়াত ইসলামি এবং ইসলামি আন্দোলন এর নেতৃবৃন্দ মূলত আমার কাছে তাদের দাবির কথা জানাতে এসেছিলেন। আমি তাদের সাথে কথা বলতে গেলে বিএনপি সমর্থকরা মনে করে আমাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পরে উভয় গ্রুপ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়েছে। চাল বিতরণ স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
মনপুরা থানার ওসি আহসান কবির সাংবাদিকদের জানান, চাল বিতরণ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন নেতাদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। পরে নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের অবস্থানের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর