প্রকাশ: শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫, ১০:১২ AM

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। ঢাকায় প্রতি বছর ২ থেকে ৩ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভূমিধসের মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওয়াটার মডেলিং ইনস্টিটিউটের সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা শহরের গড় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এলাকাভেদে ৩৮ মিটার থেকে ৮২ মিটার। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার চারপাশে নদী থাকলেও বিভিন্ন ধরণের দূষণ ও দখলের কারণে এসব নদ-নদীর পানি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপোযোগী। ফলে রাজধানীর প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের ব্যবহারের শতকরা ৭০ ভাগ পানিই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করতে হচ্ছে। শুধু ঢাকা ওয়াসাই প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে থাকে। প্রতিদিন এ বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। এর পরিণতি হিসেবে ভূমিধসের কবলে পড়তে পারে বহু এলাকা।
এ ছাড়া দেশব্যাপি পুকুর, দিঘি, জলাশয় ভরাট, দ্রুত নগরায়ণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের অভাব, অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলনের ফলে দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। ফলে বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে সুপেয় পানির উৎসও ক্রমাগত কমছে। ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প হিসেবে তথা ভূগর্ভস্থ পানির রিজার্ভ রক্ষা করতে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের (সারফেস ওয়াটার) পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু ভূগর্ভস্থ পানি নয়, দেশের সার্বিক পানি ব্যবস্থাপনার চিত্র ভয়াবহ। রাজধানী ঢাকায় সরবরাহ করা পানিই না ফুটিয়ে পান করা যায় না। চট্টগ্রাম শহরের পানি লবণাক্ততায় বিষিয়ে তুলেছে ওই জনপদের জনজীবন। রাজশাহীর পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ। খুলনায় সরবরাহ করা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পানি না ফুটিয়ে পান করা যায় না। রয়েছে লবণাক্ততাও। গভীর নলকূপের পানিও নিরাপদ নয়, আর্সেনিক ও লবণাক্ততায় ব্যবহার করা দুষ্কর। এমন পরিস্থিতিতে আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও বিশ্ব পানি দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের পানি দিবসের প্রতিপাদ্য-হিমবাহ সংরক্ষণ।
১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ২২ মার্চকে বিশ্ব পানি দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ