প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫, ৬:৫৫ পিএম

মসজিদের সংলগ্ন কবরের পাশে ৯৭ বছর ধরে ২৪ ঘণ্টাই চলছে কোরআন তিলাওয়াত। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নওয়াব শাহী জামে মসজিদটির পাশেই রয়েছে মধুপুরের প্রয়াত জমিদার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কবর।
সজিদটি ধনবাড়ী উপজেলার ৭০০ বছরের পুরোনো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগেও থেমে থাকেনি কোরআন তিলাওয়াত। পালাক্রমে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পাঁচজন হাফেজ।
জানা যায়, সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ নামে দুই ভাই ১৬ শতাব্দীতে এক কক্ষবিশিষ্ট এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ১১৫ বছর আগে সর্বশেষ নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী মসজিদটি সম্প্রসারণ করে এর আধুনিক রূপ দেন।
সংস্কারের আগে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩.৭২ মিটার এবং প্রস্থ ৪.৫৭ মিটার। সংস্কারের পর মসজিদটি হয় বর্গাকৃতির। করা হয় তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মুঘল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। মসজিদের মেঝে আর দেয়াল কাচের টুকরো দিয়ে নকশাদার মোজাইক করা।
এ মসজিদে নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও কোরআন তিলাওয়াত বন্ধ হয় না বলে জানিয়েছেন মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন। এ মসজিদে একজন খতিব, একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন, ৮ জন খাদেম, কোরআন তেলাওয়াতের জন্য রয়েছেন পাঁচজন হাফেজ।
জানা যায়, কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তিলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল মারা যান এ নবাব বাহাদুর। মসজিদের একপাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত চলছে এ কোরআন তিলাওয়াত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর