
ডিসেন্ট্রালাইজড বা বিকেন্দ্রিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীকতার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছেন।
বুধবার (৫ মার্চ) সকালে রাবি শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে স্টেশন বাজার এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন যার ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাবি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তারা 'ঢাকা না রংপুর, রংপুর, রংপুর', 'ঢাকা না কুমিল্লা, কুমিল্লা, কুমিল্লা', 'ঢাকা না রাজশাহী, রাজশাহী, রাজশাহী', 'ঢাবি না রাবি, রাবি, রাবি'—এই ধরনের স্লোগান দিয়ে তাদের অবস্থান জানান দেন। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন ছিল ঢাবি-কেন্দ্রিকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, "আমরা ঢাকা কেন্দ্রিকতার বাইরে সারাদেশ থেকে নিয়োগের সমতা চাই। এই বাংলাদেশকে ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্য থেকে মুক্তি দিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ইউজিসি থেকে শুরু করে উপদেষ্টা নিয়োগে সব জায়গায় ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্য চলে আসছে। আমরা এ আধিপত্য মানিনা। পিএসসি থেকে শুরু করে ইউজিসি পর্যন্ত সবকিছুর পুনর্গঠন চাই।"
আরেক আন্দোলন সমন্বয়ক ফাহিম রেজা জানান, "আমাদের লক্ষ্য হলো ডিসেন্ট্রোলাইজড বাংলাদেশ গড়া। আমরা ঢাবি-কেন্দ্রিক আধিপত্যের বাইরে এসে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার দিতে চাই। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ঢাবি-সিন্ডিকেটের একচেটিয়া প্রভাবের অবসান ঘটিয়ে পিএসসি ও ইউজিসিতে সবার জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
এ আন্দোলন গতকাল মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাতেও চলেছিল। দিবাগত রাতে, একই দাবিতে রাবি ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি এবং প্রতিবাদ জানিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।
রাবি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একক আধিপত্যের অবসান ঘটানো। তারা তাদের আন্দোলনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে, যাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদেরও সমান সুযোগ ও অধিকার দেওয়া হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর