প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ৪:৩৭ পিএম

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে, তবে কৃষকরা উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, তারা প্রতি কেজি বীজ আলু ১০০ টাকা দরে কিনে জমিতে রোপণ করেছেন, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ১৩-১৫ টাকা হওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুনছেন, যা বিঘাপ্রতি ২০-২৫ হাজার টাকার মতো।
এছাড়া, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকরা হিমাগারের ভাড়া কমানোর জন্য আবেদন করেছেন, কারণ তারা উৎপাদন খরচ না উঠানোর কারণে সমস্যায় পড়েছেন। অনেক কৃষক ধার দেনা পরিশোধের জন্য আলু জমিতেই ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ফেলছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২,৮৬০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হলেও, এর চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা সরকারিভাবে আলু কেনার এবং হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
খানসামা উপজেলার আলু চাষী বুলবুল ইসলাম বলেন, "আলুর ফলন ভাল হলেও বাজারমূল্য এত কম, যে কোনো লাভ তো দূরের কথা, শুধু লোকসান হচ্ছে।" ইউসুফ আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, "বর্তমানে আলুর বাজার এত খারাপ, যে কোনো ক্ষতি ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। আমরা কৃষকরা বারবার ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছি, আমাদের দিকে কোনো নজর নেই।"
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছেন, এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় আলুর ফলন বেড়েছে, তবে উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর