প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে রাতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে ডাকাতরা। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পোশাকশ্রমিকসহ সাধারণ পথচারীরা এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। হাইএইস, মাইক্রো, নোহা গাড়িতে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।
সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত ছয়টি অংশে ডাকাত-ছিনতাইকারীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র ছিনতাইকারী দল ধারালো অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের সবকিছু লুটে নিচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় মহাসড়কটি যাত্রী ও যানবাহন চালকদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিমানবন্দর হয়ে দেশে ফেরত আসা প্রবাসী, রাজধানীতে আসা ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও স্থানীয় পোশাকশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি এই সমস্যার শিকার হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই 'ঝামেলা এড়াতে' ডাকাতি শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে চান না। এমনকি অনেক সময় পুলিশও এসব ঘটনা শুধু জিডি হিসেবেই গ্রহণ করছে। কিছু ঘটনা মামলায় উঠে আসলেও, জামিনে বেরিয়ে আসা ডাকাতরা আবারও ডাকাতি করতে ফিরে আসছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সোনারগাঁয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া এলাকায় একটি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। কুয়েত প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের গাড়ি ৩টার দিকে ছিনতাইকারীদের আক্রমণের শিকার হয়। ছিনতাইকারীরা গাড়ির গ্লাস ভেঙে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে ও তার পরিবারকে জিম্মি করে নগদ প্রায় ১ লক্ষ টাকা, বিদেশ থেকে আনা অন্যান্য মালামাল, মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনতাই করে নেয়। এই ঘটনায় সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী, সন্তান এবং অন্যান্য সদস্যরা আহত হন।
এছাড়া, ২৫ অক্টোবর সকালে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি এলাকায় প্রাইভেটকার ছিনতাই করতে বাধা দেওয়ায় মো. হানিফ (৬০) নামের এক চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি কুমিল্লা যাওয়ার পথে দুবাই প্রবাসী দুই ব্যক্তিকে বন্দরের কেওঢালা এলাকায় ডাকাতির শিকার হতে হয়। ৮ ডিসেম্বর সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় ছাত্র নেতাদের বহনকারী গাড়িতে ডাকাতি হয় এবং মালামাল লুটে নেওয়া হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ জানিয়েছেন, "আমরা পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি এবং রাতের বেলা আমাদের টহল বাড়ানো হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে।" তিনি আরও বলেন, "কুয়েত প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের গাড়িতে ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে আমি জানি না, তবে সোনারগাঁ থানা পুলিশ এর ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারবে।"
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা রোধে পুলিশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর