প্রকাশ: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ২:৫৭ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী ছালেহ আহমদ সরকারি কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন (৩০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌমুহনী বাজার থেকে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামুনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। ৪ আগস্ট, ২০২৩ সালে, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা মামুন ও তার কর্মীরা আলীপুর রোডে মিছিল করে পুলিশের সার্কেল অফিসে হামলা চালায়। তারা সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটারসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং অফিসের মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামুন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও, মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, তার নির্দেশে মিছিলে না যোগ দিলে তারা মারধরের শিকার হতেন। তিনি চৌমুহনী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল ও শিহাব বাহিনীর প্রধান শিহাবের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যার ফলে ক্যাম্পাসে তার ক্ষমতা ছিল অপরিসীম।
চৌমুহনী ছালেহ আহমদ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মন্জুরুল হক জানান, মামুন তার বিরুদ্ধে শুরুর দিকে এক শিক্ষার্থীর স্থানান্তর ফরমে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করলে তাকে ধাওয়া ও লাঞ্ছিত করা হয়েছিল। তবে ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে অধ্যক্ষ তখন মামলা করতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, সেবনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে, তবে তার স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়।
বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীন মোহাম্মদ জানান, মামুনকে গ্রেপ্তার করার পর তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত করা হচ্ছে এবং নতুন মামলার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর