
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ ৫৪ বছর পর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক্সপ্রেস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান থেকে প্রথম সরকারি অনুমোদিত পণ্যের চালানটি পোর্ট কাসিম থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি ৫০,০০০ টন চালের কেনাকাটার বিষয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি) মাধ্যমে এই চুক্তিটি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত হয়। চুক্তির আওতায় প্রথম চালানটি ২৫,০০০ টন চাল নিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের দিকে রওনা হয়েছে, এবং দ্বিতীয় চালানটি মার্চের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে জোরদার হবে। বিশেষত, সরাসরি শিপিং রুটের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যতকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রথমবারের মতো পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের (পিএনএসসি) একটি জাহাজ সরকারি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা করেছে। এই পদক্ষেপটি সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্য কোনো সরকারি পণ্য সরাসরি শিপিং রুটে আসেনি তবে এখন তা শুরু হয়েছে যা দেশের শিপিং এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
এই বাণিজ্যিক চুক্তি দুই দেশের জন্য একেবারেই নতুন ধরণের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যিক সম্পর্কের জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি, এটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জন্য একটি বৃহত্তর বাণিজ্যিক বাজারের দিকে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য এবং শিপিং সম্পর্ক পুনরায় শুরু হয়। এর পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করবে।
এছাড়া দুই দেশ বর্তমানে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে যা বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজতর করবে। বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন আরো দ্রুত এবং নিরাপদ হবে যা দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ নতুন সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করছে, যা দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর