
যশোরে বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারের অবস্থান এবং নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।
মির্জা ফখরুল সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "যদি সরকারের ভেতরে থাকার খায়েশ থাকে, তাহলে পদত্যাগ করুন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই যদি তারা নতুন দল গঠন করে। তবে সরকারে থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "আগে জাতীয় নির্বাচন দিন, তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কোনোভাবেই আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না।"
নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "এটি সরকারের দায়িত্ব, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।" তিনি বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, "যশোরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নওয়াপাড়ায় বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির বড় এক বিজয়।
তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিএনপিকে ভাঙতে অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। বিএনপি জনগণের দল, তাই জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এই সংগ্রাম চালিয়ে যাব।"
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচন হয়, তবে তা ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করবে এবং দেশের মানুষ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।"
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ধর্ম বিষয়ক সহসাংগঠনিক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক টিএস আইয়ুব, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, ফিরোজা বুলবুল কলি ও সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খান, সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর