
হবিগঞ্জে ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এসব কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ৩৪ শতাংশের ফিটনেস নেই। সংস্থাটির পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় মোট নিবন্ধিত যানবাহন ৩১ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে ১০ হাজার ৫০৪টির ফিটনেস নেই, যা মোট নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ৩২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অটোরিকশা। জেলায় ফিটনেস সনদ ছাড়া চলাচল করছে ৯ হাজার ৫৩৯টি অটোরিকশা। এ ছাড়া ১৭৩টি হিউম্যান হলার, ১৭৩টি পিকআপ, ১৩৯টি ট্রাক ও ৯টি বাসের ফিটনেস নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলায় চলাচলকারী অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলায় প্রবেশ করে অবাধে চলাচল করছে। পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়াই অনেকে যানবাহন চালাচ্ছেন এবং ট্রাফিক আইন ও সংকেত উপেক্ষা করছেন। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের ভাঙা ইন্ডিকেটর এবং নিম্নমানের হেডলাইটও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
প্রতিদিন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চালকদের দক্ষতা ও লাইসেন্স যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।
যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন প্রসঙ্গে বিআরটিএ হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) জানান, কোনো যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হলে মালিককে চিঠি পাঠানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয় বার্তাও পাঠানো হয়। বার্তা পাওয়ার পর কেউ ফিটনেস নবায়ন করতে আসেন, আবার কেউ আসেন না। নির্ধারিত সময়ে নবায়ন না করলে তাঁদের খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অন্যদিকে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও আইন প্রয়োগের বিষয়ে হবিগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন শনাক্ত ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চালকদের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগ জোরদার করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি