প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ পিএম

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিনড্রাইভ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তথ্য অনুযায়ী, এসবের মধ্যে প্রায় ২৫০টি রিসোর্ট নির্মাণে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেরিনড্রাইভ এলাকায় তারকামানের মাত্র ২০ থেকে ২৫টি স্থাপনার নকশা অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনহীন স্থাপনার পাশাপাশি সৈকতের বালিয়াড়ি ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ নির্মাণ এবং সৈকত দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা চালালেও কউকের নকশা অনুমোদন ছিল না। এদিকে সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা ঝাউবাগান বিচ রেস্টুরেন্ট ও সাদাবালির মতো স্থাপনাগুলোরও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পালংকি, পেবল স্টোন ও বে ওয়াচসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সৈকতে কিটকট চেয়ার বসিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৫৮টি হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট ও কটেজকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে ইসিএ এলাকায় অবস্থিত শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হবে। কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসীম উদ্দীনও অনুমোদনহীন হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি