প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমপুর উত্তরপাড়ায় গর্ভধারিনী বৃদ্ধা মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার এক অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিজ গর্ভজাত সন্তান আরশাদ মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগমের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এখন চরম অসহায় দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধা মজিদা খাতুন।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও ভিকটিমের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাছিমপুর উত্তরপাড়ার নান্নু মিয়ার স্ত্রী বৃদ্ধা মজিদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে ছেলে ও ছেলের বউয়ের হাতে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বয়সের ভারে ন্যূজ এই বৃদ্ধাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। প্রায়ই তার ওপর চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্ত্রী সেলিনা বেগমের ভয়ে ছেলে আরশাদ মিয়া এসব অন্যায়ের কোনো প্রতিবাদ তো করতে পারেন নি।
প্রতিবেশীরা আক্ষেপ করে জানান, ছেলে আরশাদ ও তার স্ত্রী বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধা মজিদাকে নিয়মিত ভাত দিত না এবং গায়ে হাত তুলত। ছেলে কিছুই বলত না। বৃদ্ধা মা মজিদা খাতুন ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলের বউ আমাকে ভাত দেয় না, আমাকে মারে। ছেলেও কিছু বলে না। আজ আমাকে তারা মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে।"
এখানেই শেষ নয়, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ— হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বৃদ্ধা মায়ের শেষ সম্বল জমিজমা ও সম্পত্তি নিজের নামে আত্মসাৎ করেছে ছেলে আরশাদ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলে আরশাদ মিয়া বলেন, "মাকে আমি কোথায় ফেলব? আমিই তো তার একমাত্র ছেলে। মা মারা গেলে সব সম্পত্তি তো এমনিতেও আমিই পাব।"
এই নির্মম ঘটনার পর মাছিমপুরের রাস্তাঘাটে এবং সচেতন সমাজের মধ্যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সবাই এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের ‘পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী বাবা মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং তাদের ওপর নির্যাতন করা একটি মারাত্মক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, কোনো সন্তান পিতা-মাতার ভরণপোষণ না দিলে বা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করলে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
এলাকার সচেতন মহল ও সর্বস্তরের জনগণ অসহায় ও নিগৃহীত বৃদ্ধা মজিদা খাতুনের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে দ্রুত আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা ২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহাম্মেদ মোফাচ্ছের, তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিরুল হক এবং তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গণি ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ ও আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি