প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন দাবি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা নথিতে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকে এ বিষয়ে সতর্ক করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম স্মারকটির তথ্য প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও স্মারকে উল্লেখ করা হয়।
নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও কয়েকটি কনস্যুলেট থেকে অতিরিক্ত কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ। এদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে এগিয়ে এলে শনিবার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে।
অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে পৌঁছেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মতো সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অচলাবস্থা আরও এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি