প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ AM

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো, ডিজিটাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে। গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের পর এসব উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার সমান। এ অর্থ বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো ও ডিজিটালায়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানো হলে অধিক গভীরতার পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় খুলনা-মোংলা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া, ওয়াগন ও কনটেইনার ট্রেন চালু এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. সালাহ্ উদ্দিন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাব্যতা নিশ্চিত করাসহ সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকর আলী বলেন, বন্দরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবির মতে, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি মোংলা কাস্টমস হাউস ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন জরুরি। অন্যদিকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় মানুষের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি