পূজায় বাড়ি ফিরতে ১৩ কি.মি. এ ভোগান্তি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ পিএম

টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। সাড়ে তিন বছরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিন দফা। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে ব্যয়। তারপরও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন পর্যন্ত এ অংশের কাজ হয়েছে মাত্র ৫২ শতাংশ। এতে বিভিন্ন সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এ অংশে নির্বিঘ্নেই যাতায়াত করতে পারছেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার যাত্রীরা। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এলেঙ্গায় মহাসড়কের এ অংশে ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে মহাসড়কের এ অংশের প্রশস্ততা। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে। বিশেষ করে এলেঙ্গায় চলমান ফ্লাইওভারের কাজের জন্য মহাসড়কের ওই অংশে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনেম লিমিটেড। তখন এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৯৩ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে আব্দুল মোনেম লিমিটেড ২০২২ সালের মার্চ মাসে মহাসড়কের উন্নীতকরণের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে পুনরায় আরেক দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এতে এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭০৪ কোটি টাকায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত আটটি সেতু ও ১০টি কালভার্টের কাজ শেষ হয়েছে। এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের পাইলিংয়ের কাজ শেষের দিকে। ঈদের আগে এ ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের মাঝের অংশের কাজ চলমান। ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সাত কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি আন্ডারপাসের কাজ চলমান। এসব আন্ডারপাসের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন কলামের কাজ চলছে।
উত্তরবঙ্গে নিয়মিত বাসে আসা-যাওয়া করেন রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘এই অংশের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কারণে ধীরগতি হচ্ছে। প্রতি ঈদযাত্রায় মহাসড়কের এ অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা চাই, দ্রুত কাজটি শেষ করা হোক। এতে আমাদের ভোগান্তি লাঘব হবে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে এক বছর (ডিসেম্বর পর্যন্ত) বাড়ানো হয়েছে। তবে এই মেয়াদেও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে না।’
দুর্গাপূজার ছুটির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে গাড়ির চাপ বাড়বে। সেভাবে আমাদের প্রস্তুতি থাকবে। সেতুর দুই পাশেই সাতটি টোল বুথ চালু থাকবে। প্রয়োজন হলে মোটরসাইকেলের জন্য দুই পাশে আলাদা দুটি করে বুথ চালু করা হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ