প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম

যশোরের মনিরামপুরে প্রথম স্ত্রীর কথা জানাজানি হওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে বিষপানের পর বাঁওড়ে ঝাঁপ দিয়ে সেলিম জাহাঙ্গীর (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ঝাঁপা বাঁওড়ে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় বাঁওড়ের বিপরীত পাড়ের একটি পার্ক থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সেলিম উপজেলার খালিয়া গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় চা বিক্রেতা ছিলেন।
সেলিমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় খাইরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে তাঁর বোনের মেয়েকে বিয়ে করেন সেলিম। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে গত এক বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকলেও তাঁদের বিচ্ছেদ হয়নি।
খাইরুল ইসলাম জানান, প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে শার্শার নাভারন এলাকায় আরেক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁকে বিয়ে করেন সেলিম। দুই দিন আগে এক বন্ধুকে নিয়ে নাভারনে বেড়াতে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা প্রথম বিয়ের কথা জানতে পারেন। এরপর তাঁরা সেলিমকে লাঞ্ছিত করে আটকে রাখেন। পরে গতকাল সেলিমের পরিবারের সদস্যরা নাভারনে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
খাইরুল ইসলাম আরও জানান, পথে বিকেলে সঙ্গীদের বিদায় দিয়ে রাজগঞ্জ বাজারে নেমে পড়েন সেলিম। পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে বিষ কিনে ঝাঁপা বাঁওড়ের ভাসমান সেতুর দিকে যান। সেখানে বিষপানের পর পানিতে ঝাঁপ দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় বাঁওড়ের বিপরীত পাড়ের একটি পার্কে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সেলিমের হাতে বোতল ও বাঁওড়ে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি আশপাশের কয়েকজন দেখেছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, গোসলের জন্য সেলিম পানিতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ কারণে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে বাধা দেননি।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেলিমের পরিবারের সদস্যরা নাভারনে গিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে বসে বিচ্ছেদের বিষয়টি মীমাংসা করে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ