বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দর ছাড়ার আহ্বান হুতিদের      ● বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি কমেছে      ● পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই      ● হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল আরও দুই জাহাজ, নিহত এক নাবিক      ● ২৬ বছরের সনদ প্রধান শিক্ষকের বাসায়      ● আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত       ● এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজ চলবে: অ্যাটর্নি জেনারেল      ● আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাদ্রাসা কমিটি গঠন      ● সিঙ্গেল ফেজ নেট মিটার স্থাপন      ● প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে: রাষ্ট্রপতি      ● সারের ডিলারশিপ পেলেন যুবলীগ নেতার বাবা      ● সাঁথিয়ায় অবৈধভাবে সার মজুত      
সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দর ছাড়ার আহ্বান হুতিদের
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০১ AM

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব স্থাপনাকে নিজেদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এর আগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই হামলায় ভবনটির বেশ কয়েকটি তলায় আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের জবাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভবনটির কয়েকটি তলায় আগুন লাগে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেখানে সীমিত পরিসরে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, হামলার পরও আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তবে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি কোম্পানিটি।

ক্রমবর্ধমান সংঘাত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা এবং সৌদি আরবকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

রিয়াদ ও ধাহরানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি

হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের যুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সমর্থন দেওয়ার জবাবে তারা হামলা চালাচ্ছে। গত মাসে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই দিন সৌদি রাজধানীতে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রিয়াদে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিস্ফোরণের শব্দের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিস্ফোরণের কারণ জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বুধবারের বিবৃতিতে হুতিরা দাবি করেছে, ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের বিমানবন্দর এবং সৌদি রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক এবং তেল স্থাপনাগুলোর কর্মীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে কোম্পানিটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে স্থল ও সমুদ্রের তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং তেল রপ্তানির টার্মিনালসহ বিস্তৃত অবকাঠামো তদারক করা হয়।

গত এক সপ্তাহে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চারবার হামলার মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলাটিকে গত এক দশকে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটি আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সৌদিগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা।

ইয়েমেনের যুদ্ধে নতুন করে সংঘাত

ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। ওই সময় হুতিরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে রিয়াদ।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এর ফলে চলতি বছর পর্যন্ত ভঙ্গুর শান্তি বজায় ছিল।

গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে।

বুধবার আন্তর্জাতিক রেডক্রস জানিয়েছে, ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই তীব্র হওয়ায় যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেশটির হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, হুতি যোদ্ধাদের অবরোধের কারণে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরে জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা শহরটি ঘিরে ফেলে।

ডব্লিউএফপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইজে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে না সংস্থাটি ও এর সহযোগীরা। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছেন।




স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close