
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন খান এন্টারপ্রাইজের মো. আব্দুর রহিম খান। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমানে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের বাবা। এ নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ থাকা একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় তাঁরা হতাশ।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে যুবলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খানকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘যাকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁর ছেলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন না বলে আমার আশঙ্কা। আমার মতে, তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করা উচিত।’
বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন ও জামাল মাঝি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে চন্দ্রদ্বীপে যাদের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন ও মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান অন্যতম। তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খানকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় আমরা হতাশ। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে আমি মনে করি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সার ডিলার নিয়োগের নিয়ম-নীতিমালা ২০২৫’ এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত সার ব্যবস্থাপনা ২০২৬’ অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রথম দফায় বাউফল থেকে ৭৩ জন আবেদন করেন। পরে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে আরও ৩৫ জন আবেদন করেন। দুই দফায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮ জনে।
আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা কমিটি উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। উপজেলা কমিটি বিধি অনুযায়ী আবেদনগুলো যাচাই করে পুনরায় জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ইউনিয়নভিত্তিক একজন করে মোট ১৬ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, ‘জেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। আমরা বিধি অনুযায়ী সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে সেগুলো পুনরায় জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছি। পরবর্তী কার্যক্রম জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সারের ডিলার মো. আব্দুর রহিম খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ