
ইসলামে কন্যা সন্তানকে বোঝা নয়, বরং ভালোবাসা, যত্ন ও মর্যাদার সঙ্গে বড় করে তোলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন, ভরণ-পোষণ ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে মা-বাবা মহান প্রতিদানের অধিকারী হতে পারেন। কন্যা সন্তানের প্রতি সদয় হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
কন্যা সন্তান লালন-পালনের ফজিলত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি হাদিস নিচে তুলে ধরা হলো।
১. কন্যা সন্তানের প্রতি অবহেলা নয়
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার কোনো কন্যা সন্তান রয়েছে, অথচ সে তাকে জীবিত দাফন করে না, তুচ্ছ মনে করে না এবং পুত্রসন্তানদের তার ওপর প্রাধান্য দেয় না, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসনাদে আহমাদ)
২. দুই বা তিন কন্যাকে লালন-পালনের প্রতিদান
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের আশ্রয় দেয়, তাদের প্রতি দয়া করে ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়।
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, কারও দুটি কন্যা থাকলেও কি একই প্রতিদান পাওয়া যাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, দুটি কন্যা থাকলেও সে একই প্রতিদান পাবে। (আলবানি)
৩. জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার মাধ্যম
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অভাবী নারী তার দুই কন্যাকে নিয়ে সাহায্য চাইতে এলে তিনি তাকে একটি খেজুর দেন। নারীটি খেজুরটি নিজের দুই মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং নিজে কিছু খাননি।
পরে ঘটনাটি শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্বে থেকে তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার ঢাল হবে। (সহিহ মুসলিম)
৪. ধৈর্য ও দায়িত্ব পালনের প্রতিদান
উকবা ইবনে আমীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের লালন-পালনে ধৈর্য ধারণ করে, নিজের উপার্জন থেকে তাদের খাবার, পানীয় ও পোশাকের ব্যবস্থা করে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষার ঢাল হবে। (আলবানি)
৫. মহানবী (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, কিয়ামতের দিন সে ও আমি এভাবে পাশাপাশি থাকব। এ কথা বলার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের আঙুলগুলো পাশাপাশি মিলিয়ে দেখান। (সহিহ মুসলিম)
কন্যা সন্তানকে ভালোবাসা, তার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষা দেওয়া এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বড় করে তোলা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে—প্রত্যেকের প্রতি ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল আচরণ করা মা-বাবার কর্তব্য।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি