প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম

চাঁদের বুকে থাকা রহস্যময় গহ্বরের ইতিহাস ও ভূগর্ভস্থ গঠন উন্মোচনে নতুন অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চাঁদের প্রাচীন আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের গভীরে বিশাল লাভা টিউব বা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করাই এ মিশনের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের জন্য প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল খুঁজে বের করা এবং চাঁদের আগ্নেয়গিরির ইতিহাস জানার ক্ষেত্রেও এ গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, নতুন এ মিশনের মূল লক্ষ্য চাঁদের মারিয়াস হিলস পিট নামের গহ্বরটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা। চাঁদের একটি প্রাচীন আগ্নেয় অঞ্চলে অবস্থিত গহ্বরটির গভীরতা প্রায় ৩৪ মিটার বা ১১১ ফুট। এর প্রস্থ ৬৫ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত। কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবিতে গহ্বরটির অস্তিত্ব নিশ্চিত হলেও এটি ভূগর্ভস্থ কোনো বড় সুড়ঙ্গ বা গুহার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘জিমলি’ নামের এ মিশনে আধুনিক মাল্টিসেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে থাকবে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার, ভূকম্পন শনাক্তকারী সেন্সর এবং অভিকর্ষ পরিমাপক যন্ত্র বা গ্র্যাভিমিটার। পাশাপাশি বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে চাঁদের উপরিভাগ ও গহ্বরটির উন্মুক্ত দেয়ালের বিস্তারিত ছবি তোলা হবে।
গবেষকদের মতে, গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডারের মাধ্যমে চাঁদের মাটির নিচে থাকা অদৃশ্য কাঠামো শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, ভূকম্পন সেন্সরের সাহায্যে শিলার ধরন, বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে গহ্বরটির ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং এর সঙ্গে ভূগর্ভস্থ কোনো সুড়ঙ্গের সংযোগ রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা।
এ বিষয়ে প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমান্ডা হেনড্রিক্স জানিয়েছেন, এত দিন কক্ষপথ থেকে যেসব বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে, এ মিশনের মাধ্যমে সেগুলোর সরাসরি অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের গবেষক ও বিজ্ঞানী পুটজিগের মতে, অ্যাপোলো অভিযানের পর চাঁদের মাটিতে সরাসরি ভূকম্পনভিত্তিক গবেষণার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের ভূগর্ভস্থ গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
তবে চাঁদের গহ্বরটির সঙ্গে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রস্তাবিত অনুসন্ধানের ফলাফল ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ