
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে বিপুল সুবিধা পেতে হলে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। তার মতে, এআই ব্যবহারে কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটতে পারে, তবে এর সুফল যদি ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি হয়, তাহলে শুধু সব ঝুঁকি দূর হওয়ার অপেক্ষায় থেকে মানুষকে এ প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেন, এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটবেই। তবে এর মাধ্যমে যে বিপুল উপকার পাওয়া যাচ্ছে, তার তুলনায় এসব ঝুঁকি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
সম্প্রতি এআই এজেন্টের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন সিস্টেম নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করা কিংবা সাইবার হামলার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ কারণে এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিও জোরালো হয়েছে।
তবে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ওপেনএআইয়ের অবস্থান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের চেয়ে ভিন্ন বলে জানিয়েছেন অল্টম্যান। কোনো একটি গবেষণাগার বা প্রতিষ্ঠানের হাতে এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ সীমাবদ্ধ রাখার ধারণারও বিরোধিতা করেন তিনি।
অল্টম্যান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার হবে না, বড় ধরনের হ্যাকিং ঘটবে না বা কোনো খারাপ ঘটনা ঘটবে না—এমন নিশ্চয়তা দিলেও এআইয়ের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব তাদের হাতে দেওয়া উচিত নয়। এমনকি সেই প্রতিষ্ঠানটি যদি ওপেনএআইও হয়, তবু তিনি এমন ব্যবস্থার পক্ষে নন।
তার মতে, এআই নিয়ে মানুষের প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত নেতিবাচক ঘটনার তুলনায় ইতিবাচক ফল যেন বহুগুণ বেশি হয়।
এদিকে এআই খাতের উন্নয়নের গতি এবং ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সেপ্টেম্বরে এআই খাতের উন্নয়নে লাগাম টানার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ওই সময় তার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন অল্টম্যান।
এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সনও সতর্কতা প্রকাশ করেছিলেন। পদত্যাগের সময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির জন্য বড় ধরনের অস্তিত্বগত হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে, অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করতে পারে। এর মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়া কিংবা তথ্য গোপনের মতো আচরণের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।
এআই নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিশ্বনেতাদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ খাতে কঠোর বিধিনিষেধের বিরোধিতা করে আসছেন। তার আশঙ্কা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে চীনের নেতা শি জিনপিং এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি