প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও নতুন আঙ্গিকে নির্মিত কারখানার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ দুপুরে টঙ্গী শিল্প এলাকার কারখানা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক।
যেভাবে যাত্রা শুরু
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী উইলকিনসন সর্ড কোম্পানির সঙ্গে বিএসইসির চুক্তির মাধ্যমে টঙ্গীর ০.৮৯ একর জমিতে বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৫ সালে কারখানাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৮৬ সালে এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
দীর্ঘদিন পর ২০১৮ সালে কারখানার পুরোনো যন্ত্রপাতি সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন পণ্য হিসেবে ডিসপোজেবল রেজর সংযোজনের লক্ষ্যে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ সফলভাবে শেষ হয়।
উৎপাদনে নতুন রেজর
প্রকল্পের আওতায় পুরোনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের ফলে ঐতিহ্যবাহী ‘সর্ড ডাবল এজ রেজ ব্লেড’-এর গুণগত মান উন্নত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সর্ড প্রিমিয়াম’, ‘সর্ড স্মার্ট II’ ও ‘সর্ড স্মার্ট III’ নামে তিন ধরনের নতুন ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।
কারখানাটিতে বছরে ৮ কোটি পিস ডাবল এজ রেজর ব্লেড এবং ১ কোটি পিস ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উৎপাদন দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ পূরণ করবে। বাজারে চাহিদা বাড়লে শিফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
রপ্তানি ও বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সর্ড ব্র্যান্ডের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞাপন প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং জেলা পর্যায়ে ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে বাজারজাতকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে ব্লেড ও রেজর রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
কারখানাটির পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে দেশীয় বাজারে আমদানি বিকল্প পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ