প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ পিএম

ভারতে তৈরি প্রথম এইচপিভি ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করেছে। পুনে-ভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার তৈরি ‘সার্ভাভ্যাক’ ভ্যাকসিনটি গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
এই অর্জনের মাধ্যমে সার্ভাভ্যাক ডব্লিউএইচওর প্রাক-যোগ্যতা পাওয়া ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ফলে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশের টিকাদান কর্মসূচির জন্য ভারত থেকে এই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে পারবে।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্ভাভ্যাকের প্রাক-যোগ্যতা সেরাম ইনস্টিটিউটের জন্য ৩২তম। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির আরও বেশ কয়েকটি জৈব-পণ্য ডব্লিউএইচওর কঠোর মানদণ্ড পূরণ করেছে।
সার্ভাভ্যাক একটি রিকম্বিন্যান্ট কোয়াড্রিভ্যালেন্ট এইচপিভি ভ্যাকসিন। এটি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের চারটি ধরন—৬, ১১, ১৬ ও ১৮-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) আগেই দেশটিতে এর ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েদের জন্য এই টিকা অনুমোদিত। মেয়েদের ক্ষেত্রে এইচপিভির ১৬ ও ১৮ ধরনের কারণে হওয়া জরায়ুমুখ, যোনি, ভালভা ও পায়ুপথের ক্যান্সার এবং ৬ ও ১১ ধরনের কারণে হওয়া যৌনাঙ্গের আঁচিল প্রতিরোধে এটি ব্যবহার করা হয়। ছেলে ও পুরুষদের ক্ষেত্রে পায়ুপথের ক্যান্সার ও যৌনাঙ্গের আঁচিল প্রতিরোধে টিকাটি অনুমোদিত।
ডব্লিউএইচওর প্রাক-যোগ্যতা পাওয়ার পর সার্ভাভ্যাক এখন জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত হয়েছে।
টিকাটি তৈরিতে ভারতের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি (ডিবিটি), বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিল (বিআইআরএসি), ডব্লিউএইচওর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এবং গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা ছিল।
সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা জানান, এই স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী এইচপিভি মোকাবিলায় টিকাদানের পরিধি আরও বাড়াতে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
দেশীয় প্রযুক্তিতে এইচপিভি ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে ভারতের টিকা উৎপাদন সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টিকা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ডোজ, বয়সসীমা ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি