
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনায় আসা মো. শিবলু ওরফে ‘বুলেট শিবলু’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শিবলু হাইলধর ইউনিয়নের নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাশেমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ছাত্রদল নেতা জিয়াউল হক জোনাইদ।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে করা ওই মামলায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় শিবলুকে ৬৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আনোয়ারায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগেও শিবলুর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র ও কয়েকটি কার্তুজ হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরে এলাকায় ফিরে আসেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্সে কর্মরত সদস্য মো. আরিফুল ইসলামকে মারধর, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে শিবলু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা আরও জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক নেতার ছত্রছায়ায় শিবলু এলাকায় চলাফেরা করতেন এবং তার চাচাতো ভাই মো. নেছার উদ্দিন তাকে আশ্রয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় শিবলুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আরও অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। অন্য কোনো থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ