
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে।
একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ধুবাবের একটি বিমানবন্দরও হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি বাহিনী ধুবাব বিমানবন্দর দখলের পাশাপাশি ওই এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর দাবি, সরকারি বাহিনীর অভিযানে হুতিদের কয়েকজন যোদ্ধা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে তারা নৌকায় করে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
এর আগে ইয়েমেন সরকারের বাহিনী জানিয়েছিল, তারা তাইজ গভর্নরেটের ধুবাব জেলা হুতিদের কাছ থেকে দখল করে নিয়েছে। সরকারি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের বিরুদ্ধে একটি ‘নির্ণায়ক সামরিক অভিযান’-এর অংশ হিসেবে ওই এলাকা পুনর্দখল করা হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল-নুজাইলি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান এখনও চলছে। তবে বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব
বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই জলপথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের ধুবাব এলাকা বাব আল-মানদেবের কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ সামরিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে এই উপকূলীয় অঞ্চল বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি যদি স্থায়ী হয়, তাহলে বাব আল-মানদেবের আশপাশে শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কতটা বিস্তৃত এবং তা কতটা স্থায়ী হয়েছে, সে বিষয়ে আরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন। ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন পক্ষের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রায়ই পরস্পরবিরোধী হয়ে থাকে।
সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধুবাব ও বাব আল-মানদেব ঘিরে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ