
শরতের দুপুরের ভ্যাপসা গরমে বাতাস ছুঁয়ে গেলেই ক্ষেতময় যেন এক অপরূপ সোনালি দোলা। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ক্যাচক্যাচিয়া খালের পাড়ে সেই হাওয়ায় দোল খাওয়া পরিপুষ্ট আখ যেন জানান দিচ্ছে—সে এখন আহরণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
খালের পাড়ের অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে দেশি জাতের ‘লাল সুন্দরী’ আখ চাষ করে বাজিমাত করেছেন স্থানীয় এক কৃষক। তাঁর এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকদের মাঝেও আখ চাষের আগ্রহ বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ক্যাচক্যাচিয়া খালপাড়ের বাসিন্দা আব্দুল খালেক হাওলাদার অন্যের ফেলে রাখা প্রায় ২৫ শতাংশ জমিতে আখের চাষ করেছেন। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৯ থেকে ১৩ ফুট লম্বা লাল সুন্দরী জাতের সুপুষ্ট আখ। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে আখ বিক্রি শুরু করায় কৃষকের মুখে এখন চওড়া হাসি।
সাফল্যের পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে কৃষক আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “খালপাড়ের এসব জমিতে সচরাচর কোনো ভালো ফসল হতো না, পুরো জায়গাটাই অনাবাদি পড়ে ছিল। গত বছরের অগ্রহায়ণ মাসে এখানে আখ চাষের পরিকল্পনা করি। প্রথমে ২৫ শতাংশ জমি প্রস্তুতের পর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে চারা কিনে এনে আলাদা বীজতলায় পাতরা দিই। কন্দ ও শিকড় গজালে সেই চারা মূল জমিতে রোপণ করি। জমি চাষ, চারা ক্রয় এবং সার-ওষুধ বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। ১১ মাসের নিয়মিত পরিচর্যার পর এখন আখ বিক্রির উপযোগী হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ক্ষেতের প্রতিটি আখ ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছেন, সব খরচ বাদ দিয়েও এ বছর তাঁর অন্তত এক লাখ টাকা নিট লাভ থাকবে।
একই এলাকার অপর কৃষক জাকির হোসেন জানান, তিনিও চলতি বছর অল্প কিছু জমিতে আখ চাষ করে বেশ ভালো লাভ পেয়েছেন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে আখ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
সুস্বাদু, রসালো ও অর্থকরী ফসল হিসেবে আখের সার্বজনীন জনপ্রিয়তা রয়েছে। গ্রামগঞ্জের হাটবাজার থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে আখের চাহিদা সব সময়ই বেশি। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, আখ চাষে কৃষকদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, উৎসাহ ও প্রণোদনা দেওয়া গেলে এ অঞ্চলে আখের ব্যাপক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে দুমকি উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। ‘বাংলাদেশ চর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় এলাকায় আখ চাষ জনপ্রিয় করতে কাজ চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছর চরবয়ড়া গ্রামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “আখ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। যেহেতু আখের জীবনকাল দীর্ঘ, তাই আখের জমিতে সাথি ফসল হিসেবে অন্য ফসল চাষ করে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। আমরা স্থানীয় কৃষকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ