
ঝিনাইদহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ঠিকানা জটিলতায় মিশন আচার্যের নিয়োগ আটকে গেছে। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিশনের নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মিশন আচার্য পরিবার নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর পরিবারের দাবি, স্বাধীনতার পর কয়েক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর তারা কলাবাগান এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকাতেই তাদের বসবাস।
মিশনের পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদেও লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মিশন। তখনও ঠিকানা যাচাইয়ের কারণে তাঁর নিয়োগ হয়নি। পরে সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে তাঁর এক আত্মীয় মিশনের নামে দুই শতক জমি দেন এবং সেটি তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিশনের পরিবার চার দশকের বেশি সময় ধরে কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছে। প্রতিবেশীরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটিকে ওই এলাকায় বসবাস করতে দেখেছেন। তাদের ভাষ্য, পরিবারটি কখনো অন্য কোথাও বসবাস করেনি।
জানা গেছে, মিশন আচার্য ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরে শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
মিশনের দিদিমা সুবর্ণা বিশ্বাস জানান, স্বাধীনতার কয়েক বছর পর তারা পরিবার নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় এসে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে তাঁর মেয়ে ময়নার বিয়ে হয়। পরে তাঁর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর মানুষের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন ময়না।
মিশনের বড় ভাই শৈলেন আচার্য বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাদের বাড়িতে এসে পরিবারের তথ্য নিয়ে যান। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলে মিশনের নিয়োগ আটকে যায়। বিষয়টি নিয়ে মিশন ঢাকায় শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন। জানি না আমাদের কপালে কী আছে।’
মিশন আচার্য বলেন, ‘নিয়োগের আবেদন ফরমে বর্তমান ও স্থায়ী—দুই ঠিকানাতেই কলাবাগানের ঠিকানা দিয়েছি। আমার নামে আসা সব চিঠিপত্রও ওই ঠিকানায় এসেছে। তাহলে ঠিকানা যাচাইয়ে সমস্যা হলো কেন, তা বুঝতে পারছি না।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি