
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন—এমন অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে, রাতে ভাত খাওয়া যাবে কি না। প্রচলিত ধারণা হলো, রাতে ভাত খেলেই ওজন বাড়ে। ফলে ডায়েট শুরু করলেই অনেকে সবার আগে রাতের খাবার থেকে ভাত বাদ দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু রাতে ভাত খাওয়াকে ওজন বাড়ার কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ রূপালী দত্তের মতে, রাতে ভাত খাওয়া নিজে থেকে ওজন বাড়ায় না। ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মূলত নির্ভর করে একজন ব্যক্তি সারাদিনে কত ক্যালরি গ্রহণ করছেন এবং কতটা ক্যালরি খরচ করছেন তার ওপর। তাই সারাদিনের মোট খাবারের পরিমাণ ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেই গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন। রূপালী দত্তের মতে, প্রতি বেলা খাবারে আধা কাপ থেকে এক কাপ রান্না করা ভাত রাখা যেতে পারে। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে ওজন কমানোর খাদ্যতালিকায় ভাতও রাখা সম্ভব।
ভাতের সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভাত না খেয়ে এর সঙ্গে ডাল, পনির বা মুরগির মাংসের মতো প্রোটিন এবং পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য তৈরি হয় এবং খাবারটি আরও পরিপূর্ণ হয়।
সেলিব্রিটি পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকারের মতে, ওজন কমানোর জন্য ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি সাধারণ চালের পরিবর্তে হাতে ছাঁটা বা সিঙ্গেল-পলিশড চাল বেছে নেওয়া, রাতে ভাত খাওয়ার পর ঘুমানোর আগে অন্তত দুই ঘণ্টা বিরতি রাখা এবং অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
ভাত নাকি রুটি?
ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই রাতের ভাত বাদ দিয়ে রুটি খাওয়া শুরু করেন। তবে পুষ্টিবিদ কবিতা দেবগনের মতে, ভাত বা রুটির মধ্যে একটিকে সবার জন্য ভালো বলা যায় না। কোনটি উপযোগী হবে, তা ব্যক্তির হজমক্ষমতা, পছন্দ এবং পুরো খাদ্যতালিকার ওপর নির্ভর করে।
তাই ওজন কমানোর জন্য রাতের খাবার থেকে ভাত একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন এবং সারাদিনের সুষম খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তাই বিশেষ কোনো ডায়েট অনুসরণ করার আগে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি