প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ পিএম

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, দেয়াল থেকে খসে পড়া পলেস্তারা এবং ছাদ থেকে বেরিয়ে থাকা মরিচাধরা রডে তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দীর্ঘদিনের অবহেলা, তদারকির অভাব ও সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা এখন নাজুক।
প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন। তবে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে নানা অব্যবস্থাপনা। ভবনের ছাদ ও দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোনো সময় পলেস্তারা বা ভবনের কোনো অংশ খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছেন রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা।
বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। ছাদ চুইয়ে ওয়ার্ডের ভেতরে পানি পড়ায় রোগীদের বিছানা ছেড়ে ভেজা বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়। জরাজীর্ণ এই ভবনে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে।
শুধু ভবনের অবস্থাই নয়, হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতাল চত্বর ও ভেতরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত শৌচাগারগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোতে ধুলো জমছে।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোগ ভালো করতে এসে এই ভাঙা ভবনের ভয় আর দুর্গন্ধের কারণে আমরা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। কিন্তু আমাদের তো প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। গরিব মানুষ, তাই বাধ্য হয়েই সব সহ্য করে পড়ে থাকতে হচ্ছে।’
হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা ও ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুল আরেফিন বলেন, ভবনটির করুণ দশা এবং জরুরি সংস্কার বা নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা সেখানে আধুনিক ও নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান এই প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ চান তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি