প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৩ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদানের আদেশ জারির পর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া অনেক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে নানা পোস্ট ও প্রতিবাদের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে ‘নেগেটিভ’ রিপোর্টের কারণে তাদের অনেকের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ নিজেদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনের নানা তথ্য তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করছেন।
গণমাধ্যমকর্মী নূর হোসেন এক ফেসবুক পোস্টে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের পোস্ট দেখে কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রাইমারির ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া ভাই-বন্ধুদের পোস্ট দেখে চোখের পানি আটকাতে পারতেছি না। খোদার কসম, এসব দেখার জন্য জুলাই হয়নি।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে আইনুল হক নামে এক প্রার্থীও ফেসবুকে নিজের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ‘ক্লিন ইমেজ’ বজায় রেখে চলেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও নিরপেক্ষ ছিলেন। এরপরও অজ্ঞাত কারণে ভেরিফিকেশনে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটিকে ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাস’ উল্লেখ করে আইনুল হক বলেন, তিনি কোনো মামলা-ঝামেলায় জড়াননি। তারপরও শেষ পর্যন্ত ভেরিফিকেশনের কারণেই তিনি নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিকাশ দাশ নামে আরেক প্রার্থীও নিজের ও পরিবারের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় না থাকার কথা জানিয়ে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন। তার গ্রাম একজন সাবেক সংসদ সদস্যের গ্রাম হওয়ায় সেটি তার জন্য দায় বা অপরাধ কি না—এমন প্রশ্ন তুলে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার ঘটনায় এসব প্রার্থীর পোস্টে ক্ষোভ, হতাশা ও নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। তবে ভেরিফিকেশনে যেসব নির্দিষ্ট কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি