
বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাপানের নাগোয়ায় শুরু হয়েছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। শনিবার সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জাপানের সম্রাট নারুহিতো, সম্রাজ্ঞী মাসাকোসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যা ৬টায় স্টেডিয়ামের লাইট বন্ধ হওয়ার পর জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের লোগো। এরপর নিভু নিভু আলোয় শিশুদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা। নাচ, গান, সংগীত ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে সাজানো প্রায় দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে জাপানের ঐতিহ্য ও নাগোয়ার সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।
তবে জমকালো আয়োজনের বিপরীতে স্টেডিয়ামের ৩০ হাজার আসনের গ্যালারি পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি। দুপুর থেকেই মিজুহো পার্কের আশপাশে দর্শকদের উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শক গ্যালারিতে আসেননি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মার্চ পাস্ট। প্রথমে জাপানের পতাকা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন প্রতিনিধিরা। এরপর একে একে ৪৫টি দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা মার্চ পাস্টে অংশ নেন।
মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল তৃতীয় অবস্থানে মাঠে প্রবেশ করে। বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। তবে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচ থাকায় নাগোয়ায় অবস্থান করলেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল মার্চ পাস্টে অংশ নেয়নি।
এবারের এশিয়ান গেমসে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার পতাকাতলে প্রথমবারের মতো একটি শরণার্থী দল অংশ নিচ্ছে। মোট ৪৫ দেশের ১১ হাজারেরও বেশি ক্রীড়াবিদ এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল ‘হারমোনিক হার্ট বিট’। এর মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের এক হৃদস্পন্দনে একত্রিত হওয়ার প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জায়ান্ট স্ক্রিনে আইচি ও নাগোয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। স্টেডিয়ামের মাঠে প্রযুক্তির সাহায্যে জাপানের ঐতিহ্যবাহী বাড়ির অবয়ব তৈরি করা হয়। সেটিকে ঘিরে নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং বিভিন্ন দৃশ্যের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হয়।
পরে জাপানে অনুষ্ঠিত অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজনগুলোর স্মৃতিও তুলে ধরা হয়। ১৯৫৮ সালের টোকিও, ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস এবং ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকের সঙ্গে বর্তমান আইচি-নাগোয়া আসরের যোগসূত্র প্রদর্শন করা হয়।
এসব আয়োজনের পর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত পবিত্র শিখা একত্রিত করে মূল স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের শিখা প্রজ্বালন করা হয়। শেষ পর্যায়ে ভায়োলিন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দুই ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
ক্রিকেট, ফুটবল ও বাস্কেটবলের প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন ইভেন্টে পদকের লড়াইয়ে নামছেন ৪৫ দেশের ক্রীড়াবিদরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি