
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩.৪ শতাংশই যুবসমাজ (১৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী)। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৯,১৪৭ জন।
বয়সভিত্তিক মৃত্যু ও আক্রান্তের হার
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এবং প্রাণ হারানোর ক্ষেত্রে যুবকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি:
সর্বোচ্চ মৃত্যু (২৬-৩০ বছর): ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এই বয়সসীমার ২৩ জন মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ১৩.১ শতাংশ।
অন্যান্য বয়সশ্রেণি: ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৯ জন (১০.৮%), ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৭ জন (৯.৭%), ২১-২৫ ও ৪১-৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৪ জন করে এবং ১৬-২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন।
ভর্তি রোগী: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যেও ১৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের সংখ্যাই প্রধান। এই বয়সসীমার মোট ৩৯,৯৫৬ জন রোগী এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নারীদের মৃত্যু বেশি: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট মৃত্যুর মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেশি। ১৭৬ জনের মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৮৩ জন পুরুষ মারা গেছেন।
সেপ্টেম্বরের ভয়াবহতা
চলতি বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মাত্র ১৮ দিনে ২৩,৩০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৭৯ জন। এর আগে আগস্টে আক্রান্ত ২০,৫৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জনের।
যুবকদের বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, যুবকরা প্রধানত কাজের প্রয়োজনে এবং যাতায়াতের কারণে বাইরে বেশি অবস্থান করায় এডিস মশার সংস্পর্শে বেশি আসেন। এছাড়া প্রাথমিকভাবে জ্বর বা শারীরিক অসুস্থতাকে অবহেলা করা এবং বিলম্বে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু সংখ্যা দিয়েঝুঁকি নির্ধারণ না করে সঠিক ডেথ রিভিউ এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে এডিস মশা নিধন ও সার্ভেইল্যান্স জোরদার করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি