প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৩ পিএম

দুপুরের খাবার খাওয়ার পর কাজের টেবিলে বসলেই বিকেল ৩টা বাজতে না বাজতে কি শরীর অতিরিক্ত নিস্তেজ ও ক্লান্ত লাগে? অনেকেরই এই অভিজ্ঞতা বেশ পরিচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এ প্রকাশিত একটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বিকেলের ক্লান্তির মূল কারণ
আয়ুর্বেদিক হেলথ কোচ ডিম্পল জাংরার মতে, বিকেলের এই অবসাদ কেবল ব্যস্ততার কারণে হয় না; এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখে আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং খাবার থেকে সঠিক পুষ্টি উপাদান শোষণ না হওয়ার সমস্যা। আয়ুর্বেদশাস্ত্র অনুযায়ী, পরিপাক অগ্নি খাদ্যকে ভেঙে যখন পুষ্টি শোষণ করে, তখনই শরীরে ‘ওজাস’ বা শারীরিক বল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। অন্ত্র যদি পুষ্টি সঠিকভাবে গ্রহণ করতে না পারে, তবে ভালো খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ভর করতে পারে।
সারাদিন প্রাণবন্ত ও সতেজ থাকার সহজ উপায়সমূহ
দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে খুব সহজেই বিকেলের ক্লান্তি কাটিয়ে সারাদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব:
ঘি দিয়ে খেজুর খাওয়া: বিকেলের দিকে হঠাৎ ক্লান্তি দেখা দিলে প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্স বা মিষ্টি খাওয়ার বদলে ঘিয়ের সাথে খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে না দিয়ে শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে টেকসই কর্মশক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
নৈশভোজ ও ঘুমের মধ্যে সঠিক ব্যবধান: রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত। ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে তা যেমন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, তেমনি সকালে ওঠার পরও শরীর ক্লান্ত লাগতে পারে। বরং একটু ফাঁকা পেটে ঘুমাতে গেলে সকালে পূর্ণ শক্তি ও সতেজতা নিয়ে ঘুম ভাঙা সহজ হয়।
পাচনতন্ত্র বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা: পরিপাকতন্ত্র যাতে খাবার থেকে পুষ্টি উপাদানগুলো সহজে গ্রহণ করতে পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। অন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত হলে শরীরের স্বাভাবিক ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজের মধ্যে শক্তি বজায় থাকে।
বিকেলের এই নিস্তেজ ভাবকে কেবল অলসতা ভেবে অবহেলা না করে খাদ্যাভ্যাস ও পরিপাকতন্ত্রের দিকে যত্নশীল হওয়া জরুরি। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে সারাদিন চনমনে ও উদ্দীপ্ত রাখতে সাহায্য করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি