গাজার ওপর প্রামাণ্যচিত্রের জেরে অস্কারজয়ী নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ পিএম

নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি
ভিয়েলিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজেদের সর্বশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA)-র সাফল্যের পর অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর। তাদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা” করার অভিযোগ এনেছেন এই মন্ত্রী। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি স্পেশাল জুরি প্রাইজ অর্জন করে এবং প্রদর্শনী শেষে রেকর্ড ভাঙা ২৫ মিনিটব্যাপী স্ট্যান্ডিং ওভেশন বা দাঁড়িয়ে সম্মাননা লাভ করে।
প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়বস্তু ও তথ্যদাতার বক্তব্য
দ্য গার্ডিয়ান-এর সহ-প্রযোজনায় নির্মিত ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রটির নামকরণ করা হয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত রূপ (অ্যাক্রোনিম) থেকে, যা গাজায় বিমান হামলার সময় আনুমানিক কতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হতে পারে তা বোঝাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ব্যবহার করে থাকে। ৮ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন তথ্যদাতার (হুইসলব্লোয়ার) সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। তারা গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত লক্ষ্য নির্ধারণী ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন তথ্যদাতা দাবি করেছেন, হামাসের একজন মাত্র সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে ৫০০ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল।
আইনি প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী কাজ
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা গুপ্তবৃত্তির মতো নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে, যদিও এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে, আনুগত্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে রাষ্ট্র নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সন্ত্রাসবাদের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই আইন প্রসারিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবেদন, বিচারমন্ত্রীর অনুমোদন এবং বিচারিক বৈধতা প্রয়োজন হয়। এর আগে এই দুই নির্মাতা ২০২৪ সালের প্রামাণ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ (No Other Land)-এর জন্য পরিচিতি পান, যা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছিল এবং ২০২৫ সালে সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কার (অস্কার) জিতেছিল।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি