
গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস, ঘুষ ও নানা ধরনের অনিয়ম কমবে। এর ফলে সমাজ আরও পরিচ্ছন্ন ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন কোনো আশ্রয় ছিল না, তখন ডিআরইউকে তিনি আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে দেখেছেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র থাকলেও কথা বলা ও মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের বাইরে যারা মত প্রকাশের চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন এবং কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম, টকশো, টকশোর উপস্থাপক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যেও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গণমাধ্যমকে অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর সত্য প্রকাশ করতে হবে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি এলেও সেই ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা সাংবাদিকদের থাকতে হবে।
রিজভী আরও বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যেমন প্রশাসন ও আদালতকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ প্রাণ হারিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার এই মহৎ পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে হবে।
গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের সেতুবন্ধন: প্রতিমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সংবাদ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য এবং যাচাই-বাছাইহীন সংবাদও নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
তাই দ্রুত সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের অন্যতম বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন, রেল যোগাযোগ ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং বাস্তবভিত্তিক মতামত সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ সময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং সংগঠনটির সব সদস্যের কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি