প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম

জ্বালানি তেল ও মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নিয়েও নতুন চাপের মুখে পড়েছে ইউরোপ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রভাবে ইউরোপের গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে শীতের আগে গ্যাসের মজুত নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফ গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৭৯ দশমিক ২১ ইউরোতে পৌঁছায়। দিনের একপর্যায়ে দাম বেড়ে ৮০ দশমিক ৯৯ ইউরোতেও ওঠে।
শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ইউরোপের গ্যাস মজুতও তুলনামূলক কম রয়েছে। ফলে দাম বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের গ্যাসের মজুত পাঁচ বছরের গড় মাত্রার চেয়েও নিচে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। শীতের আগে মজুত পূরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি অপরিশোধিত তেলের বাজারও। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বৃহস্পতিবারও তা ১০১ ডলারের ওপরে অবস্থান করে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সামুদ্রিক হামলার আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে গ্যাস ও তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পণ্য ও সেবার মূল্যেও, ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ