প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৭ পিএম

ইংলিশ কাউন্টিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। Kent County Cricket Club-এর হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও এরই মধ্যে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলারে পরিণত হয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে এটি তাঁর চতুর্থ ম্যাচ, আর তাতেই বল হাতে নজর কেড়েছেন হাসান।
ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেও কেন্টের সেরা বোলার ছিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। ১৫.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৪ উইকেট। অর্থাৎ প্রায় ১৬ ওভার বল করেও ওভারপ্রতি ২ রানের বেশি খরচ করেননি তিনি। নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন কন্ডিশনে এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংই হাসানের সাফল্যের অন্যতম কারণ।
কিন্তু ইংল্যান্ডের অচেনা কন্ডিশনে কীভাবে এতটা কার্যকর হচ্ছেন হাসান? ম্যাচের পর Kent County Cricket Club-এর ওয়েবসাইটে নিজের বোলিং পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসানের লক্ষ্য ছিল নতুন উইকেটে লেংথে ধারাবাহিক থাকা এবং যতটা সম্ভব কম রান দেওয়া।
এই পরিকল্পনাই ম্যাচে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে গিয়ে অযথা আক্রমণাত্মক হওয়ার বদলে নির্দিষ্ট লেংথে বল করে গেছেন হাসান। ফলে একদিকে যেমন রান আটকে রেখেছেন, অন্যদিকে নিয়মিত উইকেটও তুলে নিয়েছেন।
শুধু হাসান মাহমুদ নন, কেন্টের হয়ে বাংলাদেশের আরেক পেসার খালেদ আহমেদও নিজের অভিষেক ম্যাচেই নজর কেড়েছেন। প্রথম ম্যাচেই ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ফলে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের বোলিং আক্রমণের মূল নায়ক হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের দুই পেসার।
হাসান ও খালেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই ডার্বিশায়ার নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ৩০০ রানে অলআউট হয়েছে। ইংলিশ কাউন্টিতে বাংলাদেশের দুই পেসারের এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটের জন্যও দারুণ খবর।
হাসানের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি শুধু উইকেট নেওয়ার পেছনে ছুটছেন না, বরং লেংথ ঠিক রাখা, রান নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক চাপ তৈরি করাকেই বোলিংয়ের মূল অস্ত্র বানিয়েছেন। নতুন কন্ডিশনে তাঁর এই পরিণত বোলিং পরিকল্পনাই সাফল্যের বড় রহস্য হয়ে উঠছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি