
দুনিয়ার জীবনের আবেগ ও ভালোবাসা একসময় শেষ হয়ে গেলেও মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি মুমিনের ভালোবাসা আখিরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণের পথ খুলে দিতে পারে। নবীজি (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে পরকালে তাঁর সান্নিধ্য লাভের যে আশাবাদ তৈরি হয়, তা মুমিনের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
সহিহ মুসলিমে হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিয়ামত কখন হবে জানতে চেয়েছিলেন। নবীজি (সা.) তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’ লোকটি জানায়, সে খুব বেশি নামাজ, রোজা বা সদকার আমল করতে পারেনি। তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে।
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, ‘তুমি যার সঙ্গে ভালোবেসেছ, তার সঙ্গেই থাকবে।’ এই হাদিসটি মুমিনের হৃদয়ে নবীপ্রেমের গুরুত্ব ও মর্যাদা গভীরভাবে তুলে ধরে। হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর চেয়ে সাহাবিদের কাছে আনন্দদায়ক আর কোনো কথা ছিল না।
তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার অর্থ কখনোই আমল ছেড়ে দেওয়া বা ইসলামের বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। বরং সত্যিকারের নবীপ্রেম মানুষকে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহিত করে। একজন মুমিন যখন রাসুল (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, আচার-আচরণ ও আদর্শকে নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন, তখন তাঁর ভালোবাসা শুধু মুখের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না।
নবীপ্রেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হলো সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক, ইবাদত ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা এই ভালোবাসাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। একই সঙ্গে পাপ, অন্যায়, অহংকার ও অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখাও নবীজির আদর্শ অনুসরণের অংশ।
তাই পরকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা শুধু আবেগের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ঈমান, আল্লাহর আনুগত্য, নেক আমল এবং রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের সম্পর্ক রয়েছে। যে ভালোবাসা মানুষের চরিত্র ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, সেটিই প্রকৃত নবীপ্রেমের পরিচয়।
দুনিয়ার ব্যস্ততা ও নানা মোহের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের পথনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করা একজন মুমিনের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, রাসুল (সা.)-এর প্রতি গভীর মহব্বত এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন আখিরাতে প্রিয় নবীর সান্নিধ্য লাভের আশা করতে পারেন। এই প্রত্যাশাই হতে পারে দুনিয়ার জীবনে নেক আমল ও সুন্দর চরিত্র গঠনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি