প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে নয় দিন পর জীবিত অবস্থায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উজানে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদায় উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা বিপর্যস্ত হওয়ার পর তারা টানেলের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন।
উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন আপার ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন। শুক্রবার তাদের জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠের কার্যালয়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, হিমবাহ ধসের ঘটনায় ত্রিশূলী নদীর উজানে থাকা অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছিলেন। দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেও আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কবির মহার্জনকে মাটির একটি গর্তের ভেতর থেকে উদ্ধার করে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন উল্লাসে ফেটে পড়েন।
অপরদিকে সঞ্জয় সাহকে একজন উদ্ধারকর্মী পিঠে করে টানেলের বাইরে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে আটকে থাকার কারণে তার শরীর ও মুখ কাদায় ঢাকা ছিল।
উদ্ধারের পর সেনাবাহিনীর চিকিৎসকেরা টানেলের কাছেই একটি তাঁবুতে সঞ্জয় সাহের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তাকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। এক সেনা কর্মকর্তা জানান, সঞ্জয় সাহ মেকানিক্যাল কন্ট্রোল রুমে কাজ করতেন।
জ্বালানিমন্ত্রীর এক সহকারী জানিয়েছেন, কবির মহার্জন হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। তবে সঞ্জয় সাহের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে। দুজনকেই পরবর্তী চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হবে।
এদিকে কবির মহার্জনের ভাই আমির মহার্জন জানান, তিনি এখনো সরকারি কোনো সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খবর পাননি। তবে তাকে হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ভাইকে জীবিত উদ্ধারের খবর শুনে পুরো পরিবার আনন্দিত বলে জানান তিনি।
নয় দিন ধরে টানেলের ভেতরে আটকে থাকার পর দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা অন্যদের উদ্ধারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম