প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারিশ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নানা বিতর্ক হয়েছে। সর্বশেষ আসর শেষ হওয়ার পরও অনেক ক্রিকেটার তাঁদের পাওনা পারিশ্রমিক বুঝে পাননি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আঙ্গিকে বিপিএল আয়োজনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত আগামী আসর না হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিপিএল না হলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের। তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি দুই দফা বৈঠকও করেছে। এরপর বৃহস্পতিবার বিসিবির কমিটির বৈঠক শেষে সভাপতি তামিম ইকবাল ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচে একজন ক্রিকেটার পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওয়ানডে ম্যাচের ম্যাচ ফি হবে ১ লাখ টাকা, আর টি-টোয়েন্টিতে দেওয়া হবে ৮০ হাজার টাকা। বিসিবি সভাপতি জানান, এই সুবিধা শুধু ৬০ জন ক্রিকেটারের জন্য নয়, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটের সব খেলোয়াড়ের জন্য প্রযোজ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচকে চার দিনের করার পরিকল্পনা রয়েছে। চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হবে। নারী ওয়ানডেতে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে বিপিএল না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের কার্যক্রম সচল রাখতে বড় পরিসরে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। প্রচলিত ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টির পরিবর্তে নতুন নামে এই আয়োজন করার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভাব্য নাম ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’।
পরিকল্পিত এই টুর্নামেন্টে বিভাগভিত্তিক দল থাকবে না। মোট ছয়টি দল অংশ নেবে এবং দলগুলো কোনো প্রতিষ্ঠান কিনলে তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দলের নাম দিতে পারবে। ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর টি-টোয়েন্টি আয়োজন দেখা যেতে পারে।
বিপিএল না হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে ম্যাচ ফি বাড়ানো এবং নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন—এই দুই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন টুর্নামেন্টের দল, নাম ও চূড়ান্ত কাঠামো সম্পর্কে বিসিবির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই শেষ কথা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম