নির্বিঘ্নে ধর্ম পালনে সর্বোচ্চ সহায়তা অব্যাহত থাকবে : ড. এম এ কাইয়ুম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, নির্বিঘ্নে ধর্ম পালনে সর্বোচ্চ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। সকল ধর্মের মানুষ মিলেই বাংলাদেশ। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানে কোন ভেদাভেদ নেই ভবিষ্যতেও থাকবে না।
আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সনাতন ধর্মাবলম্বী সচেতন নেত্রীবৃন্দের পরিচিতি সভা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঢাকা-১১ আসনের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আর গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আমি যে দর্শণটা বিশ্বাস করি তা হলো- বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের ভিত্তিটা হলো-ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমরা সকলে মিলে এই দেশটাকে গড়বো। এই দেশে শান্তিতে বসবাস করবো। সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। অনেক হয়েছে। এনাফ ইজ এনাফ। ধর্ম যার যার, এটা আপনার বিশ্বাস। এটা নিয়ে আমাদের বাড়াবাড়ি করার কোনো অবকাশ নেই। আমরা একটা নজির সৃষ্টি করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের ধর্মের কাজটা নির্বিঘ্নে , নির্ভয়ে সুন্দরভাবে করার জন্য যা যা করার দরকার আমরা তা করতে প্রস্তুত। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। দেশটা যেমন আপনার, তেমনি আমারও। এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই বাংলাদেশী। এখানে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা চাই একটি গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে। এ জন্য আপনাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন।
হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের নাগরিকের অধিকার পূর্ণ সংরক্ষণের পাশাপাশি ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করতে সকলকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করেতে হবে জানান, ঢাকা ১১ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আগামী দিনগুলোতে আমরা হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে কাটাতে চায়। এ জন্য সহনশীল পরিবেশ তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন আমরা তা করব।”
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “পলাতক স্বৈরাচারের শাসনামলে মুসলমান কিংবা হিন্দু-বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান, ডান কিংবা বাম বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী ভিন্ন দল মতের কেউ নিরাপদ ছিলো না। দেশে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু আমাদের কারো কোনো পরিচয়ই কোনো নাগরিকের নিরাপত্তার গ্যারান্টি হতে পারে না।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে ড. এম এ কাইয়ুম আরো বলেন, “বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আমাদের সামনে একটি বিশাল বড় সুযোগ। সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই ও বোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আপনাদের সমর্থন এবং আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা চায়।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “অতীতে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব হামলার পেছনে ছিল অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা অবৈধ লোভ।”
তিনি আরো বলেন, কোনো কারণেই যেন কারও ওপর হামলা বা অবিচার না হয় তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব তেমনি আমরাও আপনাদের পাশে আছি।
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য/গণতন্ত্র-ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশাল সুযোগ অপেক্ষমান। আর এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা ১১ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম।
সব শেষে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।
স্বদেশ প্রতিদি/কেআইকে