
সংগৃহীত ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সাধারণ ছাত্র-জনতা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদযাপন করেছেন।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ৩টার দিকে মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়। একই সঙ্গে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার প্রথম অংশ পড়া হয় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে, বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে জুলাই-অগাস্টে নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আদালত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুইটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া বাকি দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি এবং তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এ মামলার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। পরে মার্চে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি মামুনকে আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়।
মামলায় শেখ হাসিনা ও দুই আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়:
উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া
হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যা নির্দেশ দেওয়া
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনা
গত বছরের ৫ অগাস্ট চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা
আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা
মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী দৃষ্টান্ত, আহত ব্যক্তি ও চিকিৎসকরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া অডিও-ভিডিও, গণমাধ্যম প্রতিবেদনের পাশাপাশি জব্দকৃত গুলি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তি-তর্ক শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। প্রসিকিউশন ও অ্যাটর্নি জেনারেল মৃত্যু দণ্ডের দাবি জানান।